শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
এডিসি হারুন কর্তৃক ছাত্রলীগ নেতা পেটানোর ইস্যুতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ এখন আলোচনার তুঙ্গে। চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশ বাহিনী তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে নজির দেখাতে চাইছে। আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হলে বাহিনীর ভেতরে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা বা কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে গোপন তদন্ত চলছে। এদিকে শাহবাগ থানার যে পুলিশ কর্মকর্তার রুমে ছাত্রলীগ নেতাদের পেটানোর ঘটনা ঘটেছে, সেই পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) বদলি করা হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, অতীতেও বাংলাদেশ পুলিশ ব্যক্তির দায় নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। এমন সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সেই ধারাবাহিকতায় ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এডিসি হারুনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আহত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) দেখতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. রেজাউর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, এ কে এম হাফিজ আক্তার ও ডক্টর খন্দকার মহিদ উদ্দিন, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
ছাত্রলীগ নেতাদের দেখার পর ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার এ টু জেড তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এডিসি হারুনের পর শাহবাগ থানার পরিদর্শককে (অপারেশনস) থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়সহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার ঢাকার মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে এডিসি হারুনের ওপর রাষ্ট্রপতির এপিএস আজিজুল হক মামুন আগে হামলা চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না। এটি নিতেও পারে না। এতে করে বাহিনী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর এডিসি হারুন রাতে পুলিশের এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে বারডেম হাসপাতালে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই নারী কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির একান্ত সহকারী সচিব (এপিএস) আজিজুল হক মামুনের স্ত্রী। মামুন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিম এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমকে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় এডিসি হারুনের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে এডিসি ছাত্রলীগ নেতাদের জোরপূর্বক শাহবাগ থানা পরিদর্শক (তদন্ত)-এর রুমে নিয়ে মারধর করেন। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এডিসি হারুনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার এডিসি হারুনকে রংপুর বেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।